প্রতিবন্ধকতা জয় করে দেশের হয়ে সোনা জিততে প্যারা কমনওয়েলথ খেলতে বিলেত পাড়ি বাঙালি যুবকের

প্রতিবন্ধকতা জয় করে দেশের হয়ে সোনা জিততে প্যারা কমনওয়েলথ খেলতে বিলেত পাড়ি বাঙালি যুবকের

নিউজ ডেস্ক বঙ্গ রিপোর্ট: বরাবরই তাঁর দৃষ্টি শক্তি কম ছিল। কিন্তু স্বপ্ন দেখা কম ছিল না। সেই স্বপ্ন আর ইচ্ছাশক্তিকে ভর করেই ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছে মেদিনীপুরের গন্ডগ্রাম নয়াচরের বুদ্ধদেব জানা।

স্থানীয় এক শিক্ষিকা পরামর্শে অন্ধদের স্কুলে ভর্তি হয়েছিল বুদ্ধদেব। এরপর নরেন্দ্রপুর ব্লাইন্ড বয়েজ অ্যাকাডেমিতে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হতে হয় বুদ্ধ। সেখান থেকেই পড়া চালিয়ে গিয়ে এখন দ্বাদশ শ্রেণির কলা বিভাগে পাঠরত বুদ্ধদেব। সাঁতারে প্রবল আগ্রহ বুদ্ধদেবের। সাঁতারুতে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় ৬টি স্বর্ণপদক বুদ্ধদেবের ঝুলিতে।

জুডোতেও অসাধারণ পারদর্শিতা দেখায় সে। প্রশিক্ষক দিব্যেন্দু হাটুয়ার কাছে বিনা পয়সায় জুডোতে প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করে বুদ্ধদেব। এরপর জাতীয় পর্যায়ে প্যারা গেমসে গোরক্ষপুর থেকে জুডোতে সোনা যেতে বুদ্ধদেব। সঙ্গে সঙ্গেই জীবনের লক্ষ্য ঘুরে যায় তাঁর। সাঁতার কিছুটা পিছনে ফেলে জুডোতে দেশের পদক জেতার স্বপ্ন দেখতে থাকে গ্রাম বাংলার এই সোনার ছেলে।

সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই এবার প্যারা কমনওয়েলথ গেমে ৬০ কেজির নীচের জুডোতে অংশ নিতে বিলেতে পাড়ি দিচ্ছে বুদ্ধদেব। শুরু হচ্ছে বুধবার থেকে। রাজ্যে বুদ্ধদেব জানাই হল প্রথম অন্ধ ছাত্র যিনি প্যারা কমনওয়েলথ গেমসের জুডোতে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে। ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর এই প্যারা কমনওয়েলথ গেমের আসর বসছে।

বুদ্ধদেবের এই অসাধারণ লড়াইয়ের সাফল্য কামনায় নরেন্দ্রপুরে হাজির ছিলেন বাবা লক্ষ্মীকান্ত এবং মা জ্যোৎস্নাদেবী–সহ মহারাজ, শিক্ষক ও অন্যান্য সহপাঠীরা। সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মোট ২২ জন ছাত্রছাত্রী এবার প্যারা কমলওয়েলথ গেমে জুডোতে অংশ নিতে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে বুদ্ধদেব জানাই প্রথম। এই নিয়ে বুদ্ধদেব জানায়, “দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছি। এরপর টোকিও অলিম্পিকেও যাওয়ার ইচ্ছা আছে আমার।”