করোনায় বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে সংবাদমাধ্যম, কেউ খোঁজ রাখেনা ক্যামেরার ওপাশের

করোনায় বুক চিতিয়ে লড়াইয়ে সংবাদমাধ্যম, কেউ খোঁজ রাখেনা ক্যামেরার ওপাশের

জুলফিকার মোল্যা, বঙ্গ রিপোর্টঃ কোরনায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। শুরুটা চিনে হলেও প্রায় মহামারী আকার নিয়েছে ইতালিতে। ভারতেও কোরনার থাবা বড়ো আকার ধারণ করার আগেই দেশজুড়ে লক ডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। লক ডাউনে স্তব্ধ সকল পরিষেবার মাঝে লড়াইয়ের ময়দানে জরুরী পরিষেবাগুলি। এর মধ্যে আমরা গনতন্ত্রের চতুর্থস্তম্ভ সংবাদমাধ্যম জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই করি, আমরা সত্যকে তুলে ধরতে সমানভাবে বুক চিতিয়ে এগিয়ে যাই। সমাজ, দেশ, ক্ষুধার্ত, অনাহার, ধনী, দরিদ্র সকলের দু:খ, দূর্দশা, আর্তনাদ আমরাই ক্যামেররা ওপার থেকে তুলে ধরি কিন্তু বরাবরের মতই অধরা থেকে যায় আমাদের আর্তনাদ। আমরা শোনাই সমাজের কন্ঠ, দেশের কন্ঠ কিন্তু ক্যামেরার ওপার থেকে রুমালে জড়িয়ে থাকে সংবাদ মাধ্যমের আর্তনাদ। যারা অন্যের খোঁজ আপনার ড্রয়িংরুমে বা আপনার বেডরুমে খবরটা পৌঁছে দেয় কিন্তু কেও নেয়না তাঁদের খোঁজ।

কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। বলতে গেলে,
প্রতিটি মুহূর্ত কর্তব্যে অবিচল থাকতে হয়। বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন কিংবা গভীর রাতে ঘুমিয়ে আছেন। এমন সময় শুনতে পেলেন দুর্ঘটনার সংবাদ; নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করেই সাথে সাথে ক্যামেরা নিয়ে ছুটে চললেন ঘটনাস্থলে। সর্বদা চোখ, কান খোলা রেখে চলতে হয় নিজ থানা কিংবা জেলায় কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটল কি না। কোন জরুরি সংবাদ প্রেরণের ক্ষেত্রেও সেই অফিসেরই দ্বারস্থ হয়ে কখনোওবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ব্জ্রপাত, ঝড়, বৃষ্টি, কঠিন মহামারী করোনা যেকোন প্রতিকূলতার বালাই নেই ছুটে যেতে হবে গন্তব্যে, তুলে ধরতে হবে ফুটেজ। পরিস্থিতি যাইহোক আপনি যে সাংবাদিক, তা হলে সাংবাদিকদের জীবনের ঝুঁকি? নাহ! কেও শোনেনা, কেও বোঝেনা, জরুরী পরিষেবায় সবারই নিরাপত্তার জন্য অনেক কিছুই বরাদ্দ থাকলেও ব্রাত্য থাকবে সেই সাংবাদিক। আবারো কথায় কথায় প্রসঙ্গে উঠে আসে সাংবাদিকদের নামে অকথ্য ভাষা তবুও তারা বুক চিতিয়ে মাঠে লড়াই করে আপনাদের জন্য, সমাজের আয়না হয়ে তুলে ধরে চিত্র, মুখ বুজে সহ্য করে অপমান, কারণ ওরা যে সাংবাদিক!